ধর্ম

কোরবানির গরু নির্বাচনে ইসলামী নির্দেশনা

বিশেষ প্রতিবেদন

Qurbani Cow

কোরবানির গরু

পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য পশু নির্বাচনেও ইসলামী শরিয়তের নির্দিষ্ট কিছু বিধান রয়েছে। তাই কোরবানির গরু কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কোরবানির গরুর বয়স কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হতে হবে এবং তৃতীয় বছরে পদার্পণ করতে হবে। পাশাপাশি পশুটি অবশ্যই সুস্থ, সবল ও ত্রুটিমুক্ত হতে হবে।

যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি সহীহ হবে না, তার মধ্যে রয়েছে— এক বা দুই চোখ অন্ধ হওয়া, স্পষ্টভাবে খোঁড়া হওয়া, অতিরিক্ত রোগা বা দুর্বল হওয়া, কান বা লেজের বড় অংশ কাটা থাকা, অধিকাংশ দাঁত পড়ে যাওয়া কিংবা এমন অসুস্থতা থাকা যাতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবান ও পরিচর্যাপ্রাপ্ত গরু নির্বাচন করলে কোরবানির উদ্দেশ্য আরও সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়। একই সঙ্গে পশুর প্রতি দয়া, যত্ন ও মানবিক আচরণ করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

এছাড়া কোরবানির পশু বৈধ উপায়ে অর্জিত হতে হবে। চুরি, প্রতারণা বা অবৈধ সম্পদ দিয়ে কেনা পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

কোরবানির সময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কোরবানি করা যায়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,

“আল্লাহর কাছে পৌঁছে না তাদের গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”

অর্থাৎ, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আন্তরিকতা ও তাকওয়া বৃদ্ধি করা। তাই বাহ্যিক আড়ম্বরের পরিবর্তে ইসলামী বিধান মেনে সুন্দরভাবে কোরবানি আদায় করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।