বাংলাদেশ

মেঘ কেটে নামল স্বস্তি: বুকভাঙ্গা কষ্টের পর হাসছে কক্সবাজারের কৃষক

বিশেষ প্রতিবেদন

Cox's Bazar Farmer

কক্সবাজারের কৃষক

আকাশজুড়ে কালো মেঘ আর অসময়ের টানা বৃষ্টিতে যখন দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছিলেন কক্সবাজারের কৃষকরা, ঠিক তখনই প্রকৃতি যেন আবারও তাদের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিল। কয়েকদিনের বৈরি আবহাওয়ার পর রোদের দেখা মিলতেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে উপকূলীয় জনপদের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত। বুকভাঙ্গা কষ্ট আর অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে এখন মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার উৎসব।

বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে যখন পাকা ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চাষীরা, তখনই আচমকা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। নিচু জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। শ্রমিক সংকট, ভেজা ধান নষ্ট হওয়ার ভয় এবং বাড়তি খরচে দিশেহারা হয়ে পড়েন হাজারো কৃষক।

তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতেই পাল্টে যায় পুরো পরিস্থিতি। পানি ও কাদা উপেক্ষা করে মাঠে নেমে পড়েন কৃষক-কৃষাণীরা। শুধু সনাতন পদ্ধতিতেই নয়, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুতগতিতে চলছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। মাঠেই মেশিনের সাহায্যে ধান আলাদা করা হচ্ছে, আর সেই দৃশ্য যেন নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

রোদ ওঠায় ভেজা ধান দ্রুত শুকিয়ে ঘরে তুলতে পারছেন কৃষকরা। সোনালী ধানের ঝকঝকে দানা এখন শোভা পাচ্ছে গ্রামের গোলায় গোলায়। দীর্ঘ দুশ্চিন্তার পর ফসল ঘরে তুলতে পারার আনন্দে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন চাষীরা।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, অসময়ের বৃষ্টি তাদের খরচ ও পরিশ্রম অনেক বাড়িয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা। আধুনিক মাড়াই মেশিন ও আবহাওয়ার উন্নতির কারণে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পারায় এখন তাদের মুখে স্বস্তির হাসি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকস্মিক বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা তৈরি হলেও দ্রুত মাড়াই ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।

প্রকৃতির বৈরিতাকে জয় করে কক্সবাজারের মাঠজুড়ে এখন সোনালী ধানের সুবাস, মেশিনের কর্মব্যস্ত শব্দ আর কৃষকের মুখে ফিরে পাওয়া আশার আলো।